বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘অতীতেও ধ্বংসের কিনারা থেকে দেশকে রক্ষা করেছে বিএনপি, এবারও করবে। তবে সামনে কঠিন সময় আসছে, তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ রবিবার বিকেলে বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে জেলা বিএনপি আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে আমরা আমাদের যে ভাইদের হারিয়েছি, যারা শহীদ হয়েছেন তারা এ প্রজন্মের সদস্য ছিলেন। এ যুগের অন্যতম আবিষ্কার, একটি পপুলার মাধ্যম হচ্ছে আইটি। যেটিকে ইন্টারনেট বলি আমরা। স্বাভাবিকভাবে এই ইন্টারনেটের সঙ্গে আমাদের তরুণ প্রজন্মের এখন নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু এই ইন্টারনেটের ব্যয়বহুল খরচ আছে, যা সবার জন্য এফোর্ট করা সম্ভব হয়ে উঠে না। আবার একইভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মের বহু সদস্য সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে তারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে থাকেন। ইন্টারনেটের সঙ্গে নারী ও পুরুষ সকলেই সংযুক্ত, তবে তরুণ সদস্যের মাঝে ব্যবহার বেশি। বহু সদস্য পড়ালেখার জন্য ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে থাকে।
বগুড়া শহরের ২০টি জায়গাতে আমরা ডিজিটাল স্তম্ভ তৈরি করেছি। এই ডিজিটাল স্তম্ভ দিয়ে ইন্টারনেটের সুবিধাটা যাদের জন্য ব্যয়বহুল ও কষ্টকর তাদের জন্য আমরা এই ব্যবস্থাটা করতে চাইছি। আমাদের আগামী দিনের লক্ষ্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মানুষের সমর্থনে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা ইন্টারনেট সেবাটাকে আরো ইজি করে আনতে চাই তরুণ প্রজন্মের জন্য।
আজিজুল হক কলেজে যে কানেকশন দেওয়া হয়েছে এটি ফ্রি-কানেকশন। এটিতে লগিন করার জন্য কয়েকটি অপশন থাকবে সেগুলো পূরণ করে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে। যেকোনো সদস্য এক থেকে দেড় ঘণ্টা ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে। তারপর ডিসকানেক্ট হয়ে যাবে। আবারও নতুন করে লগিন করে ব্যবহার করতে পারবে, তার জন্য কোনো টাকা দিতে হবে না। বিএনপি সরকারে গেলে এই সুবিধা সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে কাজ করা হবে। তারেক রহমান আরো বলেন, আমরা সরকার গঠন করতে পারলে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবো, যেটি আমরা আড়াই বছর আগে জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম। তার ভেতরে অনেক বিষয় আছে সাংবিধানিক, আইনগত, মানুষের কর্মসংস্থান, মানুষের স্বাস্থ্য চিকিৎসা, নারীদের সক্ষমতা সকল কিছু আছে। ৩১ দফা সব সময় মনে রাখা সম্ভব হয় না। সেটিকে ছোট করে নিয়ে এসে কয়েকটি বিষয় উপস্থাপন করেছি। যেমন একটি পপুলার বিষয় নারীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড গ্রামের অসহায় কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। আগামীর প্রজন্মের জন্য ধীরে ধীরে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেরুদণ্ড মজবুত করে যদি গড়ে তুলতে পারি তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শক্তিশালী হবে। বিগত স্বৈরাচারী সময় আমরা দেখেছি প্রত্যেকটা সেক্টর ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। তারা ধ্বংস করেছে বিএনপি সরকার আবারও গড়ে তুলবে। গ্রামের প্রান্তিক মানুষ যাতে চিকিৎসা সুবিধা পায় সেটির জন্য আমরা পরিকল্পনা করেছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় পল্লি চিকিৎসক ছিলেন। যারা গ্রামে গ্রামে মানুষের চিকিৎসা দিয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে বিএনপি আবারও সেই কাজ করবে।
পরিকল্পনা হিসাবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে চাই। সেখানে নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশি অগ্রাধিকার পাবে। স্বৈরাচারের আমলে জনগণের অর্থ তছরুপ করার জন্য ডিজিটাল পার্ক তৈরি করেছেন দেশের বিভিন্ন জায়গায়। সেগুলো কাজ হয় না, বন্ধ হয়ে আছে। কিছু জায়গাতে কমিউনিটি সেন্টার করেছে। নির্বাচন বানচাল করতে একটি গোষ্ঠী নানা ষড়যন্ত্র করছে, সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
মূলকথা একটাই করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, ১৯৭১ থেকে ২৪ পর্যন্ত আমাদের দেশের বহু মানুষ বিভিন্ন সময়ে শহীদ হয়েছেন। অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন।
স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। দেশকে গড়তে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ জেলার মানুষ, আপনাদের সন্তান। দেশ স্বাধীনের পর সবাই আশা করেছিল দেশটি সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কিন্তু আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখেছি। বটমলেস বাস্কেটে পরিণত হয়েছিল দেশ। পরবর্তীতে যখন শহীদ জিয়াউর রহমানের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে সে সময় আমরা দেখেছি বাংলাদেশকে খাদ্য রফতানির দেশে পরিণত করছিলেন তিনি।
আমরা এখন গর্ব করি গার্মেন্ট শিল্প নিয়ে। এটি শহীদ জিয়া করেছেন। দেশের লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে যাচ্ছে, বেকারদের কর্মসংস্থানের সমস্যা দূর করতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মেয়র অ্যাড. মাহবুবুর রহমান, সাবেক এমপি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপির প্রযুক্তি সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম, আলী আজগার তালুকদার হেনা, সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম, সাবেক এমপি গোলাম মো. সিরাজ, জয়নাল আবেদীন চাঁন। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম আর ইসলাম স্বাধীন, হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, মাফতুন আহমেদ খান রুবেন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ উন নবী সালাম, কেএম খায়রুল বাশার, যুগ্ম সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, শেখ তাহাউদ্দিন নাহিন, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম শুভ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধা সরকার, সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ প্রমুখ।


